PROXY SERVER: জানুন প্রক্সি কি, প্রক্সি কিভাবে কাজ করে এবং ভালো প্রক্সি পাবার উপায় ।

প্রক্সি কি ?

সহজ ভাবে প্রক্সি মানে হলো কোনো কিছুর পরিবর্তে অন্য কিছু, যেমন অাপনার পরিবর্তে অাপনার বন্ধু স্কুলে উপস্থিতি দিলো, কোনো স্যার অাসলেন না তার বদলে অন্য সার কে পাঠালেন । কিন্তু কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এই সংঙ্গাটা একটু ভিন্ন,

প্রক্সি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে প্রথম সিস্টেম দেখতে পারে তৃতীয় কোনো সিস্টেম থেকে কোনো কিছু পরিচালনা হচ্ছে কিন্তু বাস্তবে তা তৃতীয় পক্ষ থেকে নয় দ্বিতীয় পক্ষ থেকে হচ্ছে ।

ধরুন, computer A একটা ফাইল নিতে চাইতেছে computer B থেকে কিন্তু computer B এর কাছে সরাসরি চাইতে পারছে না কোনো কারনে সুতরাং সে computer C কে বললো ফাইলটি এনে দিতে তার কথা না বলে, computer C এনে দিলো । ফলে, computer A ফাইল পেল, computer B জানলো ফাইলটি computer A নয় computer C নিয়েছে অাবার computer B মধ্যস্থতা করলো ।

বিষয়টা অনেকটাই এরকম, তবে প্রক্সি সার্ভার ভেদে অন্য রকম হতে পারে । প্রক্সি অনেক রকম হয়, তবে ওয়েব প্রক্সিটাই বেশি ব্যবহার করা হয় । অামাদের লেখাটা মূলত হবে প্রক্সি সার্ভারকে নিয়ে ।

Gateway:

Gate and Way থেকেই এটার সংঙ্গা পাওয়া যায়, মুলত এটি একটি দরজা এর মত যেখান দিয়ে অাসা যাওয়া করে তো এটা যদি প্রক্সি সার্ভারের ক্ষেত্রে অামরা বিবেচনা করি তবে এটা হলো এমন একটা সার্ভার যেটা নিজে একাধিক সিস্টেমর মধ্যে মধ্যস্থাতা করে, এতে পাঠানো রিকোয়েস্ট কোনো পরিবর্তন না করেই অাদান প্রদান হয় । যেমন, গ্রিনওয়েবের সব হোস্টিং এ Apache এবং ইউজার এই দুইটার মাঝখানে NginX সার্ভার কাজ করে । সাধারনত অন্য সবার ক্ষেত্রে ইউজার রিকোয়েস্ট পাঠালে তা সরাসরি সার্ভার যায়, গ্রিনওয়েবে তা হয় না । লোড ব্যালেন্সি, সিকিউরিটি এবং স্পিড বেশি পাবার জন্য মাঝখানে Nginx কে বসানো হয়েছে । ফলে এখানে Nginx হলো গেটওয়ে যে ইউজার থেকে তথ্য নেয় এবং তা প্রসেস করে বিভিন্ন স্ট্রাকচারে প্রেরন করে ।

Forward Proxy: এটার কাজ হলো user প্রক্সি সার্ভারে রিকোয়েস্ট দিবে>সার্ভার অাবার ইন্টারনেট এর মাধ্যমে রিকোয়েস্টটা প্রটেকটেড তৃতীয় পক্ষ সিস্টেমে প্রেরন করবে । অর্থাৎ এক্ষেত্রে ইউজার নিজে কানেক্টেড প্রক্সি সার্ভারের সাথে…

Reverse Proxy: এটা ফরওয়ার্ড প্রক্সি এর বিপরিত, এখানে ক্লাইন্ট নিজে ইন্টারনেটে সরাসরি কানেক্টেড হবে অার যেখান থেকে ডাটা নিতে চায় সেটার ডাটা প্রক্সির অার একটি সার্ভারের মাধম্যে ইউজারের কাছে যাবে । মূলত লোড ব্যালেন্সি সার্ভার বানাতে এটি ব্যবহার করা হয় ।

Proxy কেন ব্যবহার করা হয়?

নানা কারনেই ব্যবহার করা হয় । যেমন:

ব্লকড সাইটে এক্সেসের জন্য
লোড ব্যালেন্সিং সার্ভার স্থাপনে
লোকাল সার্ভারকে পাবলিক করতে ( অাইএসপি এর NAT বাইপাস করে )
পরিচয় গোপন করতে
স্পিড বেশি পেতে
সিকিউরিটি বাড়াতে
এছাড়াও অারো অনেক কাজে এটি ব্যবহার করা হয় ।

কিভাবে প্রক্সি ব্যবহার করবেন ?

এটি অাসলে নির্ভর করবে কাজ এবং অাপনার সিস্টেমের উপর, এক এক সিস্টেমে সেটিং করার পদ্ধতি এক এক রকম হয় ।

ওয়েব প্রক্সি ব্যবহারের টিউটোরিয়াল গুগলে পাবেন ।

কিভাবে বানাবেন?

ওয়েব প্রক্সি অনেকভাবেই বানানো যায়, যেমন অাপনি ভিপিএস কিনে ওপেন ভিপিএন সেটাপ করে নিতে পারেন । ফলে নিজের একটি প্রাইভেট ভিপিএন পাবেন ।

অাপনি চাইলে Glype or PHProxy ব্যবহার করে অনলাইন বেজড প্রক্সি ব্রাউজিং ওয়েব সাইট বানাতে পারেন । সাধারনত শেয়ারর্ড হোস্টিং এ এটা হোস্ট করা যায়না তবে গ্রিনওয়েবে শুধু মাত্র NS Package (7999 BDT/Year) এটি হোস্ট করা যাবে । এছাড়াও Nginx দিয়ে প্রক্সি সার্ভার বানিয়ে ব্রাউজারে ব্যবহার করা যাবে ।

প্রক্সি কতটুকু নিরাপদ? সত্যিই কি অাপনার পরিচয় গোপন করতে পারে?

উত্তর: না ।

মূলত এটি শুধু মাত্র নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি কে বাইপাস করতে পারবে, অর্থাৎ অাপনি অন্য কোনো সিস্টেম কে ধোঁকা দিতে পারবেন কিন্তু পুরোপুরি লুকাতে পারবেন না । কারন, ধরুন অাপনি অাইপি হাইড করলেন একটি ভিপিএন ব্যবহার করে এখন সরকার যদি ঐ ভিপিএনের অাইপি থেকে ভিপিএন কোম্পানীতে কিংবা কোম্পানি অনেক সময় ফেক পরিচয় দিয়ে বানানো থাকে কিন্তু অাইএসপি লাইসেন্সড হয়, সুতরাং ঐ অাইএসপিতে যোগাযোগ করে মানে অাইপি এর মেইন মালিক এর সাথে তারা ঐ অাইপি তে কোন অরিজিন অাইপি থেকে কানেক্ট করা হয় তা বের করতে পারবে লগ দেখে । সুতরাং অাপনাকে বের করা কঠিন হবে কিন্তু অসম্ভব না ।

প্রক্সি ব্যবহার করলে কি ইন্টারনেট এর গতি বাড়বে ?

উত্তর হ্যা ও হতে পারে অাবার না ও হতে পারে । কারন, অাপনি যে প্রক্সি সার্ভারে রিকেয়োস্ট পাঠাচ্ছেন সেটি ওয়েব সাইটের সার্ভার থেকে অনেক দূরে থাকতে পারে সে ক্ষেত্রে গতি কমবে । এছাড়াও দুইবার প্রসেসিং এ বেশী টাইম লাগবে ।

প্রক্সি কোথায় পাবো?

অনেক ফ্রি ভিপিএন অাছে যা প্রক্সি হিসাবে কাজ করে ভার্চুয়্যাল নেটওয়ার্ক বানিয়ে, অাবার অনেক প্রক্সি পাবেন যাতে শুধু অাইপি অার পোর্ট দেওয়া থেকে ঐটা ব্রাউজারে বসিয়ে নিতে হয় ।

মনে রাখবেন প্রক্সি নিরাপদ নয় বরং ভয়ংকরও হতে পারে যদি তারা লগ রাখে সার্ভারে সেখান থেকে অাপনার অনেক সেন্সিটিভ তথ্য পাওয়া যাবে যেমন কি ব্র্রাউজ করেছেন, কখন কোথা থেকে সব কিছু । সুতরাং সাবধান……
অাইপি ব্যাজড প্রক্সি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অবশ্যই পিং করে দেখে নিবেন অাইপি ডেড কিনা এবং ল্যাটেন্সি কত । এক্ষেত্রে অামি কিছুদিন আগে ডিএনএস নিয়ে একটি লেখা দিয়েছি ওটা পড়ুন ।
ওয়েব ব্যাজড প্রক্সি থেকে ভিপিএন ব্যবহার করা ভালো, এতে পরিচয় ভালোভাবে হাইড হয় ।
কখনোই চায়না কিংবা রাশিয়ান প্রক্সি ব্যবহার করবেন না 😉

Comments are closed.